সংস্থার সভাপতির বানী

সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সুশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির পাশাপশি প্রয়োজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও মানবতাবাদী ব্যক্তির। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাড়ানোর ব্রত নিয়ে ২০১৬ সালে আমি প্রতিষ্ঠা করি "এস আর সমাজ কল্যাণ সংস্থা"। আমাদের এ সংস্থার সহায়তায় যে সকল অসহায় মা-বোন ও শিক্ষার্থীরা স্বনির্ভর হতে যাচ্ছে হয়তো এদের মধ্য থেকেই একদিন বেরিয়ে আসবে দেশবরেণ্য ও মানব দরদী ব্যক্তিত্ব। ছোটবেলা থেকেই আমি ছোট চাচা মরহুম রফিকুল ইসলামের সমাজ সেবা, পরোপকারীতা, বিদ্যানুরাগীতা, ত্যাগ ও ধৈর্য্য আমাকে প্রভাবিত করে। আর হয়তো এ কারণেই মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমার মরহুম ছোট চাচা আমাকে তাঁর সকল ব্যবসায়িক দায়িত্বে মনোনীত করে যান। আমার বিশ্বাস সততা, মেধা, বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যেকোনো মহৎ কাজে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। বরিশালের আনাচে কানাচে আমাদের সংস্থার ৪ হাজারেরও বেশী কর্মী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে শুধুমাত্র অসহায় মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে। এ কর্মীদের বেশীরভাগই তরুন প্রজন্ম, যারা লেখাপড়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে আমাদের এই সংস্থায়। আমি মন থেকে প্রতিটি কর্মীকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই এ কর্মযজ্ঞে আমাকে নিরবিচ্ছিন্ন সাহায্য ও সহায়তা করার জন্য। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, স্বনির্ভরতা, ধর্মীয় খাতে এপর্যন্ত বরিশালের এক লক্ষ বিশ হাজার লোক প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়েছে এবং হচ্ছে। ক্ষুদ্র কিংবা বৃহত্তর কোনো কাজই কিন্তু ত্রুটিমুক্ত নয়, আমরাও আমাদের সেবামূলক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে হয়তো ছোটখাটো কিছু ভুলত্রুটি করে ফেলেছি নিজেদের অজান্তেই, সবার কাছে আমি হাতজোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি। দয়া করে সকল ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি মুসলমানদের দুটি হক আদায় করা অবশ্য কর্তব্য। এর একটি হচ্ছে হক্কুল্লাহ যার অর্থ আল্লাহর ইবাদত, আর দ্বিতীয়টি হলো হক্কুল এবাদ যার মানে আল্লাহর বান্দার কল্যাণ ও সেবা করা। এটাই হচ্ছে মানবসেবা বা সমাজসেবা। আমাদের সম্পদে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের অংশ রয়েছে। সে সম্পদ জনকল্যাণে ব্যয় করলে আল্লাহ বরকত দেন। ব্যবসায় সফলতা আসার পর থেকে মানুষকে সাধ্যমত সাহায্য করে যাচ্ছি। ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ভোগ বিলাসে ব্যয় করার চেয়ে সাধারণ জীবনযাপন ও জনকল্যাণে সম্পদ ব্যয় করাতেই আমি বেশী আনন্দ লাভ করি। এলাকার মানুষের কল্যাণে ও তাদের ভাগ্যের উন্নয়নে সংস্থার মাধ্যমে আজীবন কাজ করতে চাই। এমনকি আমার মৃত্যুর পরেও যাতে সেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে তার ব্যবস্থা করে যেতে চাই।